আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় চুয়াডাঙ্গা জেলার জনসংখ্যা বিষয়ক তথ্য, চুয়াডাঙ্গা জেলা বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে খুলনা বিভাগের অন্তর্গত ।

চুয়াডাঙ্গা জেলা সর্ম্পকে কিছু তথ্যঃ-
চুয়াডাঙ্গা জেলা বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় বাংলাদেশের প্রথম রেলপথ স্থাপিত হয়। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড গঠিত হয়েছিল। বাংলাদেশের প্রথম ডাকঘর চুয়াডাঙ্গা ডাকঘর চুয়াডাঙ্গায় স্থাপিত হয়। দেশের সর্ববৃহৎ চিনিকল কেরু এন্ড কোম্পানি চুয়াডাঙ্গাতে স্থাপিত হয় ১৯৩৮ সালে। চুয়াডাঙ্গা বাংলাদেশের প্রথম নিরক্ষর মুক্ত ও দারিদ্র্য মুক্ত জেলা একই সাথে চুয়াডাঙ্গা বাংলাদেশের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ এবং সুখী জেলা।
চুয়াডাঙ্গা জেলার জনসংখ্যা বিষয়ক তথ্য:-
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা জেলার জনসংখ্যা ১১,২৯,০১৫ জন, যার মধ্যে ৫,৬৪,৮১৯ জন পুরুষ ও ৫,৬৪,১৯৬জন মহিলা। জনসংখ্যার ১১,০০,৩৩০ জন মুসলিম, ২৬,৫১৪ হিন্দু, ১৫,৯৩ জন খ্রিষ্টান, ২২ জন বৌদ্ধ ও ৫৫৬ জন অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।

গ্রীক ঐতিহাসিকদের মতে এ এলাকাতেই বিখ্যাত গঙ্গারিডাই (গঙ্গাঋদ্ধি) রাজ্য অবস্থিত ছিল। গাঙ্গেয় নামক একটি শহরও এ চুয়াডাঙ্গায় অবস্থিত ছিল বলে শোনা যায়। চুয়াডাঙ্গার নামকরণ সম্পর্কে কথিত আছে যে, এখানকার মল্লিক বংশের আদিপুরুষ চুঙ্গো মল্লিকের নামে এ জায়গার নাম চুয়াডাঙ্গা হয়েছে।
১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে চুঙ্গো মল্লিক তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ভারতের নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলার সীমানার ইটেবাড়ি- মহারাজপুর গ্রাম থেকে মাথাভাঙ্গা নদীপথে এখানে এসে প্রথম বসতি গড়েন। ১৭৯৭ সালের এক রেকর্ডে এ জায়গার নাম চুঙ্গোডাঙ্গা উল্লেখ রয়েছে। ফারসি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করার সময় উচ্চারণের বিকৃতির কারণে বর্তমান চুয়াডাঙ্গা নামটা এসেছে। চুয়াডাঙ্গা নামকরণের আরো দুটি সম্ভাব্য কারণ প্রচলিত আছে। চুয়া থেকে চুয়াডাঙ্গা হয়েছে।

বার্ষিক গড় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১,৪৬৭ মিলিমিটার। গোটা চুয়াডাঙ্গা জেলা গাঙ্গেয় অববাহিকায় অবস্থিত; যার ওপর দিয়ে মাথাভাঙ্গা, ভৈরব, কুমার, চিত্রা, এবং নবগঙ্গা নদীসমূহ প্রবাহিত হয়েছে।
এই জেলার জীবননগর থানার উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চুয়াডাঙ্গা ১১.৫ মিটার (৩৮ ফুট) উপরে অবস্থিত। এ উচ্চতা উত্তর-পশ্চিমাংশে বেশি এবং দক্ষিণ-পূর্বাংশে কম। এই তারতম্যের কারণে বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সমুদ্র থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
আরও পড়ূনঃ
১ thought on “চুয়াডাঙ্গা জেলার জনসংখ্যা বিষয়ক তথ্য”